শাহ্ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (রহ.) ছিলেন বাংলায় ইসলাম প্রচারকারী প্রাথমিক সুফি সাধকদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর জীবনী সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য তথ্যগুলো নিম্নরূপ:
প্রাথমিক জীবন ও বাংলায় আগমন**
- শাহ্ সুলতান রুমী পশ্চিম এশিয়ার তুরস্কের সেলজুক রাজবংশের সুলতানের কনিষ্ঠ ভ্রাতা ছিলেন। "রুমী" উপাধিটি রোম (তুরস্ক) সাম্রাজ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল ।
- তিনি ১০৫৩ খ্রিস্টাব্দের কিছু আগে ১২০ জন সুফি সাধকের একটি দল নিয়ে প্রথমে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে আসেন। পরে দলটি বিভক্ত হয়ে তিনি নেত্রকোণার দিকে অগ্রসর হন ।
ইসলাম প্রচার ও রাজা পরশুরামের সাথে যুদ্ধ**
- তিনি বগুড়ার মহাস্থানগড়ে রাজা পরশুরামকে ইসলামের দাওয়াত দেন। পরশুরামের আক্রমণে তাঁর সহযোদ্ধা সাতজন শহীদ হন। পরে শাহ্ সুলতান রুমী নিজে বাহিনী নিয়ে পরশুরামকে পরাজিত ও নিহত করেন ।
- এরপর তিনি ব্রহ্মপুত্র নদী অতিক্রম করে বোকাইনগর ও মদনপুরে ইসলাম প্রচার শুরু করেন ।
মদন কোচের সাথে অলৌকিক ঘটনা**
- মদনপুরের রাজা মদন কোচ তাঁকে বিষপান করতে দিলে তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। এতে মুগ্ধ হয়ে রাজা ও তার অনুসারীরা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মদনপুর গ্রামটি শাহ্ সুলতান রুমীকে নিষ্কর দান করা হয় ।
- কথিত আছে, তিনি জায়নামাজ ছড়িয়ে দিয়ে সমগ্র রাজ্য আচ্ছাদিত করেছিলেন, যা মদন কোচকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করে ।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার**
- তিনি ১০৭৫ খ্রিস্টাব্দে (মতান্তরে ১০৫৩ খ্রিস্টাব্দে) মৃত্যুবরণ করেন এবং মদনপুরে তাঁর মাজার নির্মিত হয় ।
- ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৮২৯ সালে মাজারের জমি দখলের চেষ্টা করলে একটি ফার্সি দলিলের ভিত্তিতে তা রক্ষা করা হয় ।
ঐতিহাসিক তাৎপর্য**
- তিনি বাংলায় মুসলিম শাসনের পূর্বেই ইসলাম প্রচার শুরু করেন, যা বাংলার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ।
- তাঁর মাজার আজও নেত্রকোণার মদনপুরে অবস্থিত এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত হয় ।
শাহ্ সুলতান রুমী (রহ.)-এর জীবনী বাংলায় ইসলামের প্রসার ও স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে সমন্বয়ের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর কর্মকাণ্ড ও অলৌকিক ঘটনাগুলো আজও লোককথায় ও ইতিহাসে স্মরণীয়।

0 মন্তব্যসমূহ